নতুন রপ্তানিকারকদের জন্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
মো. জয়নাল আবদিন
ব্যবসা পরামর্শক | উদ্যোক্তা | আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (টিঅ্যান্ডআইবি)
মহাসচিব, ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই)
ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি ও ভোক্তা বাজার। বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার প্রচলিত বাজারের বাইরে নতুন বাজারে প্রবেশ এবং রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে ব্রাজিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় গন্তব্য হতে পারে। তবে একজন নতুন রপ্তানিকারকের জন্য ব্রাজিলে পণ্য রপ্তানি করা শুধু একজন ক্রেতা খুঁজে পণ্য পাঠিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। একটি সফল বাংলাদেশ-ব্রাজিল রপ্তানি লেনদেনের সঙ্গে একাধিক ধাপ জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে সঠিক পণ্য নির্বাচন, ব্রাজিলের বাজার গবেষণা, নির্ভরযোগ্য আমদানিকারক খোঁজা, পণ্যের আমদানি-সংক্রান্ত বিধিবিধান যাচাই, সঠিক পণ্য শ্রেণিবিন্যাস নির্ধারণ, রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ, বাণিজ্যিক শর্তাবলি নির্ধারণ, অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা, রপ্তানি দলিল প্রস্তুত, বাংলাদেশের কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন, আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যবস্থা করা এবং ব্রাজিলে আমদানিকারকের মাধ্যমে পণ্য খালাস করা।
বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিও রয়েছে। দুই দেশের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিতে দুই দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের অধীনে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সহজতর করার ব্যবস্থা রয়েছে। চুক্তির নির্দেশনামূলক পণ্য তালিকায় পাট, পাটজাত পণ্য, মাছ ও চিংড়ি, চা, মসলা, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, তার ও কেবল, রাসায়নিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই নিবন্ধে বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে রপ্তানির প্রথম বাজার গবেষণা থেকে শুরু করে পণ্য উৎপাদন, ক্রেতা যাচাই, চুক্তি, রপ্তানি দলিল, কাস্টমস, জাহাজীকরণ, ব্রাজিলে আমদানি খালাস এবং অর্থপ্রাপ্তি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ: ব্রাজিলে পণ্য আমদানির নিয়ম পণ্যভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো রপ্তানি আদেশ গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস, আমদানি শুল্ক, লাইসেন্স, স্বাস্থ্য ও কারিগরি অনুমোদন এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
১. বাংলাদেশ-ব্রাজিল রপ্তানি বাজারের সম্ভাবনা বুঝুন
প্রথমেই বুঝতে হবে কেন একজন ব্রাজিলীয় ক্রেতা বাংলাদেশ থেকে আপনার পণ্য কিনবে।
বাংলাদেশ এমন অনেক পণ্য উৎপাদন করে যেসব ক্ষেত্রে দেশের দীর্ঘদিনের উৎপাদন সক্ষমতা, দক্ষ শ্রমশক্তি, বৃহৎ উৎপাদন ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক রপ্তানি অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সম্ভাবনাময় পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- তৈরি পোশাক
- নিট পোশাক
- ওভেন পোশাক
- গৃহস্থালি বস্ত্র
- পাট ও পাটজাত পণ্য
- চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য
- জুতা
- ওষুধ
- হস্তশিল্প
- চা
- মসলা
- প্রক্রিয়াজাত খাদ্য
- সামুদ্রিক খাদ্য
- প্লাস্টিক পণ্য
- হালকা প্রকৌশল পণ্য
- তার ও কেবল
- আসবাবপত্র
- গৃহস্থালি পণ্য
- সুতা ও কাপড়
- নির্বাচিত রাসায়নিক পণ্য
বাংলাদেশ-ব্রাজিল বাণিজ্য চুক্তির নির্দেশনামূলক রপ্তানি পণ্য তালিকায় কাঁচা পাট, পাটজাত পণ্য, কাগজজাত পণ্য, রেশমজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মাছ ও চিংড়ি, হস্তবয়ন পণ্য, চা, মসলা, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, তার ও কেবল, রাসায়নিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের উল্লেখ রয়েছে।
তবে কোনো পণ্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তির তালিকায় থাকলেই যে ব্রাজিলে সেটি শুল্কমুক্ত বা বিশেষ সুবিধায় প্রবেশ করবে—এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট পণ্যের ব্রাজিলীয় শ্রেণিবিন্যাস, শুল্ক এবং অন্যান্য আমদানি শর্ত ব্রাজিলীয় আমদানিকারককে যাচাই করতে হবে। সঠিক পদ্ধতি হলো:
পণ্য নির্বাচন → বাজারের চাহিদা → পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস → শুল্ক → বিধিবিধান → ক্রেতা → মূল্য → চালান
২. সঠিক রপ্তানি পণ্য নির্বাচন করুন
নতুন রপ্তানিকারকের একটি সাধারণ ভুল হলো প্রথমেই প্রশ্ন করা: “আমি ব্রাজিলে কী রপ্তানি করতে পারি?” এর পরিবর্তে প্রশ্ন হওয়া উচিত: “বাংলাদেশের কোন পণ্য ব্রাজিলের বাজারে বাস্তবসম্মত প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করতে পারে?”
আপনার পণ্যকে অন্তত সাতটি বিষয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করুন।
২.১ ব্রাজিলের বাজারে চাহিদা
ব্রাজিলীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার পণ্য আমদানি করে কি না এবং আমদানির পরিমাণ কত—তা গবেষণা করুন।
২.২ প্রতিযোগিতা
চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া এবং অন্যান্য দেশ থেকে একই পণ্য ব্রাজিলে কতটা আসছে তা খুঁজে দেখুন।
২.৩ পণ্যের বিশেষত্ব
আপনার পণ্যের অন্তত একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা থাকা উচিত। যেমন:
- প্রতিযোগিতামূলক মূল্য
- উন্নত মান
- আকর্ষণীয় নকশা
- পরিবেশবান্ধব উৎপাদন
- নমনীয় ন্যূনতম অর্ডার
- নিজস্ব নকশা অনুযায়ী উৎপাদন
- নির্ভরযোগ্য সরবরাহ
- প্রয়োজনীয় সনদ
- নিজস্ব ব্র্যান্ডের জন্য উৎপাদন
২.৪ আমদানি বিধিবিধান
কিছু পণ্যের জন্য অন্য পণ্যের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রক শর্ত থাকতে পারে।
খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, চিকিৎসা সরঞ্জাম, রাসায়নিক পণ্য, কৃষিপণ্য এবং কিছু শিল্পপণ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
২.৫ পরিবহন ব্যয়
বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিল পর্যন্ত পণ্য পাঠাতে কত খরচ হবে তা বিবেচনা করুন।
২.৬ লাভের পরিমাণ
শুধু কারখানার উৎপাদন ব্যয় নয়, সম্পূর্ণ রপ্তানি ব্যয় হিসাব করুন।
২.৭ পুনরায় অর্ডারের সম্ভাবনা
একবার বিক্রির পরিবর্তে নিয়মিত পুনরায় অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন পণ্য সাধারণত বেশি কার্যকর রপ্তানি পণ্য।
৩. ব্রাজিলের বাজার গবেষণা করুন
ক্রেতা খোঁজার আগে বাজার বুঝুন। আপনার বাজার গবেষণার মাধ্যমে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া উচিত:
- কারা এই পণ্য আমদানি করে?
- তারা কত পরিমাণ আমদানি করে?
- কোন দেশগুলো তাদের পণ্য সরবরাহ করে?
- প্রতিযোগিতামূলক মূল্য কত?
- ব্রাজিলের কোন রাজ্যে চাহিদা বেশি?
- ক্রেতারা কী ধরনের পণ্যের বৈশিষ্ট্য চান?
- কোন সনদ প্রয়োজন?
- কী ধরনের প্যাকেজিং প্রত্যাশিত?
- প্রচলিত অর্থপ্রদানের শর্ত কী?
- কোন বন্দরে পণ্য আসে?
- সংশ্লিষ্ট পণ্যের ব্রাজিলীয় শ্রেণিবিন্যাস কী?
- আমদানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা লাইসেন্স প্রয়োজন কি না?
ব্রাজিলের সরকারি বাণিজ্য ও কাস্টমস ব্যবস্থায় পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস, শুল্ক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়। ব্রাজিলের ক্ষেত্রে শুধু আন্তর্জাতিক পণ্য শ্রেণিবিন্যাস নয়, ব্রাজিলীয় এনসিএম শ্রেণিবিন্যাসও বুঝতে হবে।
৪. সঠিক এইচএস কোড এবং ব্রাজিলীয় এনসিএম নির্ধারণ করুন
বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। বাংলাদেশে সাধারণত এইচএস শ্রেণিবিন্যাস ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ব্রাজিল এনসিএম:মেরকোসুরের সাধারণ পণ্য নামকরণ ব্যবহার করে।
আন্তর্জাতিক সুরেলা পণ্য শ্রেণিবিন্যাসের প্রথম ছয়টি সংখ্যা সাধারণত আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও ব্রাজিলীয় এনসিএম আট অঙ্কের শ্রেণিবিন্যাস ব্যবহার করে।
এনসিএম ভুল হলে এর প্রভাব পড়তে পারে:
- আমদানি শুল্ক
- কর
- আমদানি লাইসেন্স
- নিয়ন্ত্রক সংস্থা
- পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ
- শুল্ক পরিসংখ্যান
- প্রয়োজনীয় সনদ
- কাস্টমস প্রক্রিয়া
তাই একজন রপ্তানিকারককে ব্রাজিলীয় আমদানিকারকের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট পণ্যের এনসিএম কোড নিশ্চিত করতে হবে।
বাস্তব পরামর্শ
ব্রাজিলীয় ক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন: “অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ব্রাজিলীয় এনসিএম কোড নিশ্চিত করুন।” এরপর আপনার নিজস্ব কাস্টমস পরামর্শদাতা বা বাণিজ্য বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে শ্রেণিবিন্যাসটি যাচাই করুন। কখনো শুধু পণ্যের নাম দেখে এনসিএম অনুমান করবেন না।
৫. পণ্য পাঠানোর আগে ব্রাজিলের আমদানি শর্ত যাচাই করুন
একজন ব্রাজিলীয় ক্রেতা আপনার পণ্যে আগ্রহী হলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে তিনি সেটি সহজেই আমদানি করতে পারবেন। ব্রাজিলে পণ্য ও লেনদেনভেদে আমদানি লাইসেন্স, অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক শর্ত থাকতে পারে।
বিশেষভাবে যাচাই করুন:
- আমদানি লাইসেন্স প্রয়োজন কি না
- কোনো সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন কি না
- স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অনুমোদন প্রয়োজন কি না
- উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সনদ প্রয়োজন কি না
- প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত অনুমোদন প্রয়োজন কি না
- পণ্যের মানের সনদ প্রয়োজন কি না
- কারিগরি মানদণ্ড প্রযোজ্য কি না
- পণ্যের লেবেলিংয়ের বিশেষ নিয়ম আছে কি না
- প্যাকেজিংয়ের বিশেষ শর্ত আছে কি না
বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন এমন পণ্য
- খাদ্য
- কৃষিপণ্য
- সামুদ্রিক খাদ্য
- ওষুধ
- চিকিৎসা সরঞ্জাম
- প্রসাধনী
- রাসায়নিক পণ্য
- প্রাণিজ পণ্য
- উদ্ভিদজাত পণ্য
- কিছু বৈদ্যুতিক পণ্য
- কারিগরি নিয়ন্ত্রিত পণ্য
ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং কিছু স্বাস্থ্যসম্পর্কিত পণ্যের ক্ষেত্রে ব্রাজিলের জাতীয় স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা আনভিসার অনুমোদনসহ অতিরিক্ত শর্ত থাকতে পারে। তাই ব্রাজিলীয় আমদানিকারক নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কোনো পণ্যকে “সহজে আমদানি করা যাবে” বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত নয়।
৬. বাংলাদেশে রপ্তানিকারক হিসেবে আপনার ব্যবসা নিবন্ধন সম্পন্ন করুন
বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানি করতে হলে প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ও রপ্তানি নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ব্যবসার ধরন ও পণ্যের ওপর নির্ভর করে প্রয়োজন হতে পারে:
- ট্রেড লাইসেন্স
- কর শনাক্তকরণ নম্বর
- মূল্য সংযোজন কর ও ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর
- রপ্তানি নিবন্ধন সনদ
- অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকে হিসাব
- প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক সংগঠনের সদস্যপদ
- পণ্যভিত্তিক নিবন্ধন
- প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন
বাংলাদেশ কাস্টমসের রপ্তানি প্রক্রিয়ায় রপ্তানি চুক্তি বা ক্রয়াদেশ, বাণিজ্যিক চালান, প্যাকিং তালিকা, অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন রপ্তানি ফরম, উৎপত্তি সনদ, মূল্য সংযোজন কর সংক্রান্ত নিবন্ধন এবং কর শনাক্তকরণ নম্বরসহ বিভিন্ন দলিলের প্রয়োজন হতে পারে। পণ্যভেদে অতিরিক্ত অনুমোদন ও সনদ প্রয়োজন হতে পারে।
৭. প্রকৃত ব্রাজিলীয় ক্রেতা খুঁজে বের করুন
সঠিক ব্রাজিলীয় ক্রেতা খুঁজে পাওয়া অনেক সময় পণ্য উৎপাদনের চেয়েও কঠিন হতে পারে। সম্ভাব্য ক্রেতার ধরন:
- আমদানিকারক
- পরিবেশক
- পাইকার
- খুচরা বিক্রেতা
- উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান
- ব্র্যান্ড মালিক
- ক্রয় প্রতিষ্ঠান
- বাণিজ্যিক পরিবেশক
- ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান
- সুপারমার্কেট
- বিশেষায়িত পরিবেশক
- প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা
ব্রাজিলীয় ক্রেতা কোথায় খুঁজবেন?
বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করুন:
১. ব্রাজিলীয় বাণিজ্য মেলা
২. ব্যবসায়িক চেম্বার
৩. বাণিজ্য সংগঠন
৪. আমদানিকারক তথ্যভান্ডার
৫. ব্যবসায়িক পণ্য প্ল্যাটফর্ম
৬. পেশাগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
৭. ব্রাজিলীয় কোম্পানি তালিকা
৮. শিল্প সংগঠন
৯. বাণিজ্য প্রতিনিধি দল
১০. সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান
১১. ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও মিলনমেলা
১২. সরাসরি ই-মেইল বিপণন
বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যবসায়িক মিলনমেলা বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। কারণ বাংলাদেশ ও ব্রাজিল ভৌগোলিকভাবে অনেক দূরে এবং ব্রাজিলে ব্যবসার প্রধান ভাষা পর্তুগিজ। একজন সম্ভাব্য ক্রেতাকে যোগাযোগ করার সময় আপনার পরিচিতিপত্রে থাকা উচিত:
- প্রতিষ্ঠানের পরিচয়
- পণ্যের তালিকা
- পণ্যের বৈশিষ্ট্য
- পূর্বের রপ্তানি বাজার
- ন্যূনতম অর্ডার
- সম্ভাব্য মূল্য
- সনদ
- উৎপাদন ক্ষমতা
- সরবরাহ সময়
- প্যাকেজিং
- অর্থপ্রদানের শর্ত
- যোগাযোগের তথ্য
সব কোম্পানিকে একই সাধারণ পণ্য তালিকা পাঠাবেন না। ব্রাজিলের নির্দিষ্ট বাজার ও ক্রেতা অনুযায়ী যোগাযোগ বার্তা তৈরি করুন।
৮. ব্রাজিলীয় ক্রেতাকে যাচাই করুন
নতুন ক্রেতার সঙ্গে ব্যবসা করার আগে তাকে যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাচাই করুন:
- প্রতিষ্ঠানের আইনগত নাম
- কোম্পানির নিবন্ধন নম্বর
- নিবন্ধিত ঠিকানা
- ওয়েবসাইট
- ব্যবসার ধরন
- আমদানির ইতিহাস
- মালিক বা পরিচালকদের তথ্য
- ব্যাংক তথ্য
- বাণিজ্যিক রেফারেন্স
- পূর্বের সরবরাহকারী
- আর্থিক সক্ষমতা
- ব্যবসায়িক সুনাম
- প্রাসঙ্গিক মামলা বা বিরোধের তথ্য
ক্রেতার কাছ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সংগ্রহ করুন:
- কোম্পানি নিবন্ধনের তথ্য
- আমদানিকারকের তথ্য
- এনসিএম কোড
- প্রয়োজনীয় আমদানি লাইসেন্স
- প্রয়োজনীয় অনুমোদন
- গন্তব্য বন্দর
- কাস্টমস প্রতিনিধি বা দালালের তথ্য
- কর ও নিয়ন্ত্রক শর্ত
- পণ্যের ক্রয় বৈশিষ্ট্য
বড় অঙ্কের লেনদেন হলে চুক্তির আগে পেশাদার বাণিজ্যিক যথাযথ যাচাই করানো নিরাপদ।
৯. পেশাদার রপ্তানি মূল্য প্রস্তাব তৈরি করুন
রপ্তানি মূল্য শুধু “প্রতি পিস ৫ ডলার” লিখে পাঠানোর বিষয় নয়। একটি ভালো রপ্তানি মূল্য প্রস্তাবে থাকা উচিত:
- পণ্যের নাম
- পণ্যের বৈশিষ্ট্য
- পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস
- পরিমাণ
- একক মূল্য
- মুদ্রা
- ন্যূনতম অর্ডার
- প্যাকেজিং
- সরবরাহ সময়
- পণ্য পাঠানোর বন্দর
- গন্তব্য বন্দর
- বাণিজ্যিক শর্ত
- অর্থপ্রদানের শর্ত
- মূল্য প্রস্তাবের মেয়াদ
- পণ্য পরিদর্শনের শর্ত
- প্রয়োজনীয় সনদ
- নমুনা সংক্রান্ত নীতি
উদাহরণ
ধরা যাক, আপনি বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে টি-শার্ট রপ্তানি করছেন। মূল্য প্রস্তাব হতে পারে:
পণ্য: ১০০ শতাংশ সুতি পুরুষের টি-শার্ট
পরিমাণ: ১০,০০০ পিস
একক মূল্য: প্রযোজ্য মূল্য
বাণিজ্যিক শর্ত: এফওবি চট্টগ্রাম
সরবরাহ সময়: নিশ্চিত অর্ডার ও অর্থপ্রদানের পর নির্ধারিত সময়
পণ্য পাঠানোর বন্দর: চট্টগ্রাম
গন্তব্য: সান্তোস, ব্রাজিল
প্যাকেজিং: রপ্তানিযোগ্য কার্টন
পরিদর্শন: পারস্পরিক সম্মতিতে
উৎপত্তি সনদ: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রদানযোগ্য
বাস্তব মূল্য ও শর্ত পণ্য, ক্রেতা, পরিমাণ ও বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
১০. সঠিক বাণিজ্যিক শর্ত নির্বাচন করুন
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাণিজ্যিক শর্তের মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে ব্যয়, দায়িত্ব ও ঝুঁকি ভাগ করা হয়। প্রচলিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- এক্সডব্লিউ
- এফসিএ
- এফওবি
- সিএফআর
- সিআইএফ
- সিপিটি
- সিআইপি
- ডিএপি
- ডিডিপি
নতুন রপ্তানিকারকের জন্য এফওবি, সিএফআর বা সিআইএফ তুলনামূলকভাবে পরিচিত হতে পারে। তবে কোনটি ব্যবহার করবেন তা পণ্য, ক্রেতা, পরিবহন ব্যবস্থা, বীমা এবং ঝুঁকি বণ্টনের ওপর নির্ভর করে।
এফওবি: বিক্রেতা নির্ধারিত জাহাজীকরণ স্থান পর্যন্ত পণ্য ও রপ্তানি আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্ব পালন করেন। মূল সমুদ্র পরিবহন ও গন্তব্যস্থলের দায়িত্ব সাধারণত ক্রেতার ওপর থাকে।
সিএফআর: বিক্রেতা গন্তব্য বন্দরে সমুদ্র পরিবহনের ভাড়া প্রদান করেন। তবে ঝুঁকি কখন হস্তান্তর হবে তা সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক শর্তের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
সিআইএফ: বিক্রেতা নির্ধারিত গন্তব্য বন্দরে পণ্য, বীমা ও পরিবহন ব্যয় বহন করেন, প্রযোজ্য বাণিজ্যিক শর্ত অনুযায়ী।
মনে রাখবেন; ব্যয় কে বহন করবে এবং ঝুঁকি কখন হস্তান্তর হবে, এই দুটি বিষয় এক নয়।
চুক্তিতে বাণিজ্যিক শর্তের সঙ্গে নির্দিষ্ট স্থান বা বন্দর উল্লেখ করুন।
১১. সম্পূর্ণ রপ্তানি মূল্য হিসাব করুন
রপ্তানি মূল্য নির্ধারণের আগে হিসাব করুন: উৎপাদন ব্যয়
- প্যাকেজিং
- অভ্যন্তরীণ পরিবহন
- কাস্টমস ও বন্দর ব্যয়
- দলিল প্রস্তুতির ব্যয়
- পরিদর্শন
- ব্যাংক ব্যয়
- পরিবহন ভাড়া
- বীমা
- কমিশন
- অর্থায়ন ব্যয়
- অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয়ের জন্য সংরক্ষণ
- লাভ
এরপর হিসাব করুন ব্রাজিলীয় ক্রেতার জন্য পণ্যের মোট আমদানি ব্যয় কত হবে। এর মধ্যে থাকতে পারে:
- আমদানি শুল্ক
- বিভিন্ন আমদানি কর
- কাস্টমস ব্যয়
- বন্দর ব্যয়
- কাস্টমস প্রতিনিধির ব্যয়
- অভ্যন্তরীণ পরিবহন
- পরিবেশকের মুনাফা
- খুচরা বিক্রেতার মুনাফা
বাংলাদেশ থেকে দেওয়া মূল্য আকর্ষণীয় হলেও ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর পণ্য অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হয়ে গেলে ক্রেতা অর্ডার করবে না। তাই কারখানা মূল্য নয়, সম্পূর্ণ অবতরণ ব্যয় বিবেচনা করুন।
১২. অর্থপ্রদানের শর্ত সাবধানে নির্ধারণ করুন
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অর্থপ্রদানের ঝুঁকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্য পদ্ধতি:
অগ্রিম অর্থপ্রদান: ক্রেতা উৎপাদন বা জাহাজীকরণের আগে অর্থ প্রদান করে।
সুবিধা: রপ্তানিকারকের ঝুঁকি কম।
অসুবিধা: নতুন ক্রেতার কাছ থেকে পুরো অগ্রিম পাওয়া কঠিন হতে পারে।
ঋণপত্র: ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণপত্র ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অর্থপ্রদানের নিরাপত্তা বাড়তে পারে।
দলিলের মাধ্যমে আদায়: ব্যাংকের মাধ্যমে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্যিক দলিল পরিচালিত হয়।
বাকিতে বিক্রি: পণ্য পাঠানোর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্রেতা অর্থ প্রদান করে।
এতে ক্রেতার সুবিধা বেশি হলেও নতুন রপ্তানিকারকের ঝুঁকি অনেক বেশি। অপরিচিত নতুন ব্রাজিলীয় ক্রেতার সঙ্গে প্রথম লেনদেনে অপ্রয়োজনীয় উচ্চ ঝুঁকির অর্থপ্রদানের শর্ত এড়িয়ে চলা উচিত। আপনার অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের সঙ্গে অর্থপ্রদানের কাঠামো ও প্রয়োজনীয় দলিল আগে আলোচনা করুন।
১৩. রপ্তানি চুক্তি করুন বা নিশ্চিত ক্রয়াদেশ নিন
শুধু মোবাইল বার্তা বা মৌখিক কথাবার্তার ভিত্তিতে উৎপাদন শুরু করবেন না। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন:
- ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয়
- পণ্যের বিবরণ
- পরিমাণ
- মূল্য
- মুদ্রা
- বাণিজ্যিক শর্ত
- সরবরাহের সময়
- অর্থপ্রদানের শর্ত
- প্যাকেজিং
- মান
- পরিদর্শন
- প্রয়োজনীয় দলিল
- বীমা
- পরিবহন
- অভিযোগের পদ্ধতি
- ওয়ারেন্টি, যদি থাকে
- অনিবার্য পরিস্থিতি
- বিরোধ নিষ্পত্তি
- প্রযোজ্য আইন
- চুক্তি বাতিলের শর্ত
সঠিক চুক্তি ভবিষ্যতের ভুল বোঝাবুঝি অনেক কমিয়ে দেয়।
১৪. বাংলাদেশে রপ্তানি দলিল প্রস্তুত করুন
বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির ক্ষেত্রে কাস্টমসের কাছে রপ্তানি ঘোষণা বা বিল অব এক্সপোর্ট/শিপিং বিল দাখিল করতে হয়। প্রধান দলিলগুলোর মধ্যে সাধারণত থাকে:
১. রপ্তানি ঋণপত্র অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রপ্তানি চুক্তি/ক্রয়াদেশ
২. বাণিজ্যিক চালান
৩. প্যাকিং তালিকা
৪. অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন রপ্তানি ফরম
৫. উৎপত্তি সনদ
৬. মূল্য সংযোজন কর ও ব্যবসা শনাক্তকরণ সংক্রান্ত দলিল
৭. কর শনাক্তকরণ নম্বর
৮. পণ্যভিত্তিক প্রয়োজনীয় সনদ বা অনুমোদন
পণ্যভেদে আরও প্রয়োজন হতে পারে:
- উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সনদ
- স্বাস্থ্য সনদ
- প্রাণিস্বাস্থ্য সনদ
- মান সনদ
- ধোঁয়ামুক্তকরণ সনদ
- হালাল সনদ
- পরিদর্শন সনদ
- পরীক্ষাগার প্রতিবেদন
- বিশেষ অনুমোদন
- অন্যান্য নিয়ন্ত্রক দলিল
খাদ্য, কৃষিপণ্য ও প্রাণিজ পণ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সনদ প্রয়োজন হতে পারে।
১৫. বাণিজ্যিক চালান সঠিকভাবে তৈরি করুন
বাণিজ্যিক চালান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এতে সাধারণত থাকতে হবে:
- রপ্তানিকারকের নাম ও ঠিকানা
- আমদানিকারকের নাম ও ঠিকানা
- চালান নম্বর
- তারিখ
- ক্রয়াদেশ বা চুক্তির নম্বর
- পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ
- প্রযোজ্য পণ্য শ্রেণিবিন্যাস
- পরিমাণ
- একক মূল্য
- মোট মূল্য
- মুদ্রা
- বাণিজ্যিক শর্ত
- উৎপত্তির দেশ
- মোট ওজন
- নিট ওজন
- পরিবহন সংক্রান্ত তথ্য
- অর্থপ্রদানের শর্ত
পণ্যের বিবরণ এমন হতে হবে যাতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সহজে বুঝতে পারে ঠিক কী পণ্য আমদানি করা হচ্ছে।
শুধু: “পোশাক” না লিখে, পণ্য সত্যিই যদি এমন হয়, তাহলে লিখুন: “১০০ শতাংশ সুতি পুরুষের বোনা, স্বল্পহাতা টি-শার্ট”
১৬. প্যাকিং তালিকা ও পরিবহন দলিল প্রস্তুত করুন
প্যাকিং তালিকায় সাধারণত উল্লেখ থাকে:
- মোট কার্টনের সংখ্যা
- কার্টন নম্বর
- পণ্যের বিবরণ
- প্রতি কার্টনে পরিমাণ
- মোট পরিমাণ
- নিট ওজন
- মোট ওজন
- কার্টনের মাপ
- ঘনমাত্রা
- প্যাকেজের চিহ্ন ও নম্বর
সমুদ্রপথে পরিবহনের ক্ষেত্রে সাধারণত বিল অব লেডিং এবং আকাশপথে এয়ারওয়ে বিল ব্যবহৃত হয়। ব্রাজিলে আমদানি খালাসের সময় বাণিজ্যিক চালান, প্যাকিং তালিকা, পরিবহন দলিল, উৎপত্তি প্রমাণপত্র এবং অন্যান্য প্রযোজ্য দলিল প্রয়োজন হতে পারে।
১৭. বাংলাদেশে কাস্টমস ছাড়পত্র সম্পন্ন করুন
পণ্য প্রস্তুত হওয়ার পর আপনার পণ্য রপ্তানির জন্য কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। একজন অভিজ্ঞ সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি বা অনুমোদিত কাস্টমস প্রতিনিধির সহায়তা নেওয়া নতুন রপ্তানিকারকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রপ্তানি ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার পর কাস্টমস দলিল পরীক্ষা করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য শারীরিকভাবে পরীক্ষা করতে পারে। কাস্টমস অনুমোদন সম্পন্ন হলে পণ্য জাহাজে তোলার জন্য প্রস্তুত হয়। প্রথমবার রপ্তানি করার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিলে ভুলের ঝুঁকি কমে।
১৮. বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যবস্থা করুন
বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের ভৌগোলিক দূরত্ব অনেক বেশি। বাণিজ্যিক পণ্যের ক্ষেত্রে সমুদ্রপথ সাধারণত বেশি উপযোগী হতে পারে, বিশেষ করে বড় পরিমাণের পণ্যের ক্ষেত্রে। পরিবহন পরিকল্পনায় বিবেচনা করুন:
- পণ্য পাঠানোর বন্দর
- গন্তব্য বন্দর
- পূর্ণ কনটেইনার
- আংশিক কনটেইনার
- পরিবহন সময়
- পথে স্থানান্তর
- পরিবহন ভাড়া
- কনটেইনার প্রাপ্যতা
- বন্দর ব্যয়
- বীমা
- গন্তব্যস্থলের ব্যয়
ব্রাজিলীয় ক্রেতার সঙ্গে গন্তব্য বন্দর আগে নিশ্চিত করুন।
সান্তোস বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও আপনার পণ্যের ক্ষেত্রে উপযুক্ত বন্দর ক্রেতার অবস্থান, পরিবহন ব্যবস্থা এবং পণ্যের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত। জরুরি নমুনা বা ছোট ও উচ্চমূল্যের পণ্যের ক্ষেত্রে আকাশপথ বিবেচনা করা যেতে পারে।
১৯. ব্রাজিলে আমদানি খালাস
জাহাজ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়ার পরও রপ্তানি প্রক্রিয়া শেষ হয় না। ব্রাজিলীয় আমদানিকারককে গন্তব্যস্থলে আমদানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ব্রাজিলের আমদানি কার্যক্রমে সিসকোমেক্স এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের একক পোর্টাল ব্যবহৃত হয়। যোগ্য লেনদেনে নতুন ধরনের আমদানি ঘোষণা ব্যবস্থাও ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে। ব্রাজিলীয় আমদানিকারক বা তার আইনগত প্রতিনিধি সাধারণত পরিচালনা করেন:
- আমদানি ঘোষণা
- প্রয়োজনীয় আমদানি লাইসেন্স
- কাস্টমস দলিল
- কর প্রদান
- নিয়ন্ত্রক অনুমোদন
- কাস্টমস পরীক্ষা
- পণ্য ছাড়
- অভ্যন্তরীণ পরিবহন
রপ্তানিকারকের দায়িত্ব হলো সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ দলিল সরবরাহ করা।
২০. পণ্য পাঠানোর আগে ব্রাজিলীয় আমদানি লাইসেন্স নিশ্চিত করুন
এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলে পণ্যের এনসিএম ও ধরন অনুযায়ী আমদানি লাইসেন্সের প্রয়োজন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পণ্য পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। তাই পণ্য পাঠানোর আগে ব্রাজিলীয় আমদানিকারকের কাছ থেকে নিশ্চিত করুন:
“এই পণ্য আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রস্তুত আছে কি না?”
বিশেষ করে নিয়ন্ত্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে এই যাচাই ছাড়া পণ্য পাঠানো উচিত নয়।
২১. ব্রাজিলের আমদানি শুল্ক ও কর
ব্রাজিলে আমদানিকারককে পণ্য, লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন শুল্ক ও কর দিতে হতে পারে। সম্ভাব্য উপাদানের মধ্যে থাকতে পারে:
- আমদানি শুল্ক
- শিল্পপণ্য কর
- আমদানি পর্যায়ের বিভিন্ন সামাজিক অবদানমূলক কর
- রাজ্যভিত্তিক পণ্য ও সেবা কর
- অন্যান্য প্রযোজ্য ব্যয়
সঠিক করের পরিমাণ নির্ভর করে:
- এনসিএম
- পণ্যের মূল্য
- শুল্কমূল্য
- ব্রাজিলের সংশ্লিষ্ট রাজ্য
- প্রযোজ্য আইন
- বিশেষ কর সুবিধা বা ব্যতিক্রম
তাই শুধু বাংলাদেশের এফওবি বা সিআইএফ মূল্য দেখে ব্রাজিলে পণ্যের মোট ব্যয় হিসাব করবেন না। ব্রাজিলীয় আমদানিকারককে একটি সম্পূর্ণ অবতরণ ব্যয় হিসাব প্রস্তুত করতে বলুন।
২২. কাস্টমস খালাস ও ব্রাজিলীয় ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছানো
ব্রাজিলের কাস্টমস ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ হলে পণ্য ছাড় করা যায়। এরপর সাধারণত:
১. বন্দর থেকে পণ্য ছাড়
২. কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন
৩. টার্মিনাল ব্যয় পরিশোধ
৪. অভ্যন্তরীণ পরিবহন
৫. গুদামে পণ্য পৌঁছানো
৬. চূড়ান্ত পরীক্ষা
৭. মজুদে গ্রহণ
এই পর্যায়েও রপ্তানিকারককে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রেতাকে দলিল বা পণ্যের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।
ছোট একটি ভুলেও পণ্য আটকে যেতে পারে। যেমন:
- পণ্যের বিবরণে ভুল
- পরিমাণে অমিল
- ওজনে অমিল
- চালানের মূল্যে ভুল
- প্যাকিং তালিকায় ভুল
- এনসিএম ভুল
- সনদ অনুপস্থিত
- আমদানিকারকের তথ্য ভুল
তাই প্রতিটি দলিল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুত করতে হবে।
২৩. রপ্তানি মূল্য সংগ্রহ ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন
পণ্য পাঠানোর পর অর্থপ্রদানের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। নথি সংরক্ষণ করুন:
- বাণিজ্যিক চালান
- রপ্তানি চুক্তি
- রপ্তানি ফরম
- পরিবহন দলিল
- ব্যাংকিং দলিল
- বিল অব লেডিং
- উৎপত্তি সনদ
- কাস্টমস দলিল
- অর্থপ্রাপ্তির প্রমাণ
- ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ড
রপ্তানিকারককে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের সঙ্গে রপ্তানি মূল্য আদায় এবং সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো সমন্বয় করতে হবে। অর্থ পাওয়া শুধু ব্যবসায়িক বিষয় নয়; এর যথাযথ নথিভুক্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
২৪. প্রথম চালানকে পরীক্ষামূলক চালান হিসেবে বিবেচনা করুন
নতুন রপ্তানিকারকের শুরুতেই বিশাল কনটেইনার পাঠানোর প্রয়োজন নেই। বরং একটি ধাপে ধাপে পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে: নমুনা → পরীক্ষামূলক অর্ডার → ছোট বাণিজ্যিক চালান → পুনরায় অর্ডার → বড় চুক্তি
এতে উভয় পক্ষ পরীক্ষা করতে পারে:
- পণ্যের মান
- প্যাকেজিং
- পরিবহন
- কাস্টমস দলিল
- ব্রাজিলের আমদানি প্রক্রিয়া
- যোগাযোগ ব্যবস্থা
- অর্থপ্রদানের নির্ভরযোগ্যতা
- বাজারে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা
প্রথম চালান সফল হলে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ান।
২৫. নতুন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সাধারণ ভুল
ভুল ১: আমদানি শর্ত না দেখে ক্রেতা খোঁজা
ক্রেতা আগ্রহী হলেই পণ্য আমদানি করা সম্ভব হবে, এমন নয়।
ভুল ২: অনুমান করে এনসিএম নির্ধারণ করা
ভুল শ্রেণিবিন্যাস কাস্টমস ও নিয়ন্ত্রক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
ভুল ৩: শুধু কারখানা মূল্য দেওয়া
সম্পূর্ণ রপ্তানি এবং অবতরণ ব্যয় হিসাব করতে হবে।
ভুল ৪: পর্তুগিজ ভাষাকে গুরুত্ব না দেওয়া
ব্রাজিলীয় বাজারে পেশাদার পর্তুগিজ যোগাযোগ ক্রেতার আস্থা বাড়াতে পারে।
ভুল ৫: ব্রাজিলের আমদানি শর্ত নিশ্চিত না করে পণ্য পাঠানো
এতে পণ্য আটকে গিয়ে বড় আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
ভুল ৬: অপরিচিত ক্রেতাকে বাকিতে পণ্য দেওয়া
ক্রেতার বাণিজ্যিক ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করুন।
ভুল ৭: বিভিন্ন দলিলে বিভিন্ন তথ্য দেওয়া
চালান, প্যাকিং তালিকা, চুক্তি, পরিবহন দলিল ও কাস্টমস ঘোষণার তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
ভুল ৮: পণ্যভিত্তিক সনদের প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করা
খাদ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্য, রাসায়নিক পণ্য ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
ভুল ৯: শুধু একজন ক্রেতার ওপর নির্ভর করা
একাধিক ব্রাজিলীয় আমদানিকারক ও পরিবেশকের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরি করুন।
ভুল ১০: ব্রাজিলকে ছোট বাজার হিসেবে দেখা
ব্রাজিল বিশাল ও বৈচিত্র্যময় দেশ। তাই নির্দিষ্ট রাজ্য, শিল্প, পরিবেশক ও গ্রাহক শ্রেণি ধরে বাজার প্রবেশ কৌশল তৈরি করা উচিত।
২৬. বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে প্রথম রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তালিকা
- ব্রাজিলের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করা হয়েছে
- ব্রাজিলীয় প্রতিযোগী গবেষণা করা হয়েছে
- এইচএস কোড যাচাই করা হয়েছে
- ব্রাজিলীয় এনসিএম নিশ্চিত করা হয়েছে
- আমদানি শুল্ক যাচাই করা হয়েছে
- আমদানি লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হয়েছে
- পণ্যভিত্তিক নিয়ন্ত্রক শর্ত যাচাই করা হয়েছে
- ব্রাজিলীয় ক্রেতা যাচাই করা হয়েছে
- ক্রেতার কোম্পানি নিবন্ধন নম্বর নিশ্চিত করা হয়েছে
- আমদানিকারকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে
- বাণিজ্যিক মূল্য প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে
- বাণিজ্যিক শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে
- অর্থপ্রদানের শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে
- রপ্তানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে
- ক্রয়াদেশ পাওয়া গেছে
- নমুনা অনুমোদিত হয়েছে
- উৎপাদন সম্পন্ন হয়েছে
- মান পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে
- বাণিজ্যিক চালান তৈরি করা হয়েছে
- প্যাকিং তালিকা তৈরি করা হয়েছে
- উৎপত্তি সনদ প্রস্তুত করা হয়েছে
- অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি ফরম সম্পন্ন করা হয়েছে
- প্রয়োজনীয় পণ্যভিত্তিক সনদ সংগ্রহ করা হয়েছে
- বিল অব এক্সপোর্ট/শিপিং বিল প্রস্তুত করা হয়েছে
- বাংলাদেশ কাস্টমস ছাড়পত্র সম্পন্ন হয়েছে
- পরিবহন বুকিং সম্পন্ন হয়েছে
- প্রয়োজন অনুযায়ী বীমা করা হয়েছে
- বিল অব লেডিং বা এয়ারওয়ে বিল সংগ্রহ করা হয়েছে
- প্রয়োজনীয় জাহাজীকরণ দলিল ক্রেতা বা ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে
- ব্রাজিলীয় আমদানিকারক আমদানি ঘোষণা প্রস্তুত করেছে
- প্রয়োজনীয় আমদানি লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে
- ব্রাজিলীয় কাস্টমস খালাস সম্পন্ন হয়েছে
- পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছেছে
- রপ্তানি মূল্য পাওয়া গেছে
- সব রপ্তানি দলিল যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে
২৭. টিআইবি কীভাবে বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে রপ্তানিতে সহায়তা করতে পারে
ব্রাজিলে রপ্তানি কার্যক্রম সহজ করতে একজন রপ্তানিকারক একা সবকিছু পরিচালনা না করে পেশাদার বাণিজ্য পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। একটি পেশাদার বাণিজ্য পরামর্শ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা করতে পারে।
বাজার গবেষণা: ব্রাজিলের বাজারে সম্ভাবনাময় পণ্য, প্রতিযোগী, ক্রেতা শ্রেণি এবং সম্ভাব্য চাহিদা শনাক্ত করা।
ক্রেতা অনুসন্ধান: ব্রাজিলীয় আমদানিকারক, পরিবেশক, পাইকার এবং সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে বের করা।
ব্যবসায়িক মিলনমেলা: বাংলাদেশি রপ্তানিকারক এবং ব্রাজিলীয় ক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বৈঠকের ব্যবস্থা করা।
পণ্যের বাজার অবস্থান নির্ধারণ: ব্রাজিলের বাজার অনুযায়ী পণ্যের উপস্থাপন, মূল্য এবং বিপণন বার্তা উন্নত করা।
বাণিজ্যিক যথাযথ যাচাই: বড় চুক্তির আগে সম্ভাব্য ক্রেতা ও ব্যবসায়িক অংশীদারের পরিচয় ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা যাচাই করা।
রপ্তানি দলিল বিষয়ে পরামর্শ: আন্তর্জাতিক চালানের প্রয়োজনীয় দলিল ও বাংলাদেশি রপ্তানি প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়তা করা।
বাজারে প্রবেশ কৌশল: আমদানিকারক, পরিবেশক, এজেন্ট, প্রতিনিধি বা অন্যান্য উপযুক্ত ব্যবসায়িক কাঠামোর মাধ্যমে ব্রাজিলের বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা তৈরি করা।
বাণিজ্য মেলা ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল: বাণিজ্য মেলা, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল এবং সরাসরি ব্যবসায়িক মিলনমেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্রাজিলীয় ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা।
ব্রাজিলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা গড়ে তুলতে আগ্রহী রপ্তানিকারকদের জন্য পরিকল্পিত বাজার প্রবেশ কৌশল সাধারণভাবে এলোমেলোভাবে বিভিন্ন কোম্পানিকে ই-মেইল পাঠানোর চেয়ে বেশি কার্যকর।
উপসংহার
বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে রপ্তানি করা সম্ভব এবং এর জন্য উল্লেখযোগ্য বাজার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সফলতার জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রস্তুতি, আইন ও বিধিবিধান মেনে চলা, নির্ভরযোগ্য ক্রেতা নির্বাচন এবং দক্ষ বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা।
পুরো প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে:
১. সঠিক পণ্য নির্বাচন
↓
২. ব্রাজিলের বাজার গবেষণা
↓
৩. এইচএস ও এনসিএম শ্রেণিবিন্যাস নির্ধারণ
↓
৪. শুল্ক ও আমদানি বিধিবিধান যাচাই
↓
৫. ব্রাজিলীয় ক্রেতা খোঁজা ও যাচাই
↓
৬. মূল্য প্রস্তাব ও বাণিজ্যিক শর্ত নির্ধারণ
↓
৭. অর্থপ্রদানের শর্ত নির্ধারণ
↓
৮. চুক্তি বা ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করা
↓
৯. পণ্য উৎপাদন ও মান পরীক্ষা
↓
১০. রপ্তানি দলিল প্রস্তুত
↓
১১. বাংলাদেশ কাস্টমস ছাড়পত্র
↓
১২. বাংলাদেশ থেকে পণ্য জাহাজীকরণ
↓
১৩. ব্রাজিলীয় আমদানিকারকের আমদানি প্রক্রিয়া
↓
১৪. ব্রাজিলীয় কাস্টমস খালাস ও পণ্য সরবরাহ
↓
১৫. রপ্তানি মূল্য গ্রহণ ও হিসাব সংরক্ষণ
↓
১৬. পুনরায় অর্ডার ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা উন্নয়ন
নতুন রপ্তানিকারকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো: রপ্তানি শুরু করবেন পণ্য পাঠানোর মাধ্যমে নয়; শুরু করবেন বাজার গবেষণা, ক্রেতা যাচাই এবং আমদানি বিধিবিধান পরীক্ষা করার মাধ্যমে।
ব্রাজিলের আমদানি ব্যবস্থা সঠিক পণ্য শ্রেণিবিন্যাস, শুল্ক এবং প্রশাসনিক শর্তের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। একইভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সঠিক দলিল, কাস্টমস ঘোষণা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সনদ গুরুত্বপূর্ণ। তৈরি পোশাক, বস্ত্র, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, খাদ্য, সামুদ্রিক খাদ্য, মসলা, হস্তশিল্প এবং অন্যান্য বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ব্রাজিল একটি সম্ভাবনাময় বাজার হতে পারে—যদি বাজারে প্রবেশের কাজটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়।
বাংলাদেশ-ব্রাজিল রপ্তানি ব্যবসা শুধু একটি চালান পাঠিয়ে তৈরি হয় না। এটি তৈরি হয়: সঠিক পণ্য + সঠিক ক্রেতা + সঠিক মূল্য + সঠিক দলিল + আমদানি বিধিবিধান মেনে চলা + নির্ভরযোগ্য পরিবহন + নিয়মিত যোগাযোগ + দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে।
আপনি যদি বাংলাদেশের একজন প্রস্তুতকারক বা রপ্তানিকারক হিসেবে ব্রাজিলের বাজারে প্রবেশ করতে চান, তাহলে প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে আপনার পণ্যের ব্রাজিলীয় এনসিএম নির্ধারণ, আমদানি শুল্ক ও বিধিবিধান যাচাই, ব্রাজিলীয় বাজারে মোট অবতরণ ব্যয় হিসাব এবং সম্ভাব্য প্রকৃত ক্রেতাদের একটি যাচাইকৃত তালিকা তৈরি করা।
এরপর ছোট পরিসরে পরীক্ষামূলক অর্ডার দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে নিয়মিত রপ্তানি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা যেতে পারে। বাংলাদেশথেকে ব্রাজিলে রপ্তানি একটি জটিল প্রক্রিয়া হতে পারে, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক তথ্য, সঠিক অংশীদার এবং পেশাদার সহায়তার মাধ্যমে একজন নতুন রপ্তানিকারকও ধাপে ধাপে এই বাজারে সফলভাবে প্রবেশ করতে পারেন।


